নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে জামিনের আবেদন করতে বলল কলকাতা হাই কোর্ট!
নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে নতুন করে জামিনের জন্য আবেদন করতে বলল কলকাতা হাই কোর্ট। শুক্রবার প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র বি ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ সিঙ্গল বেঞ্চের রক্ষাকবচ সংক্রান্ত নির্দেশ খারিজ করে দিয়েছে। প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, ‘‘একক বেঞ্চ কী ভাবে এই নির্দেশ দিতে পারে? এই নির্দেশ দেখে আমি বিস্মিত!’’
এর আগে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ জানিয়েছিল, নতুন মামলায় কংগ্রেস প্রার্থীকে গ্রেফতার দেখানো যাবে না। ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করতে পারবে না পুলিশ। সিঙ্গল বেঞ্চের ওই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে গিয়েছিল রাজ্য। শুক্রবার মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি প্রশ্ন করেন, কেন আগাম জামিনের আবেদন করেননি, অথবা গ্রেফতারির পরে কেন জামিনের আবেদন করেননি? তিনি আরও জানান, একজন আইনের ছাত্র হিসেবে আইন কঠোর ভাবে মেনে চলবেন তিনি।
শুক্রবারের শুনানিতে মিলনের আইনজীবী অয়ন ভট্টাচার্য সওয়ালে বলেন, ‘‘আমার মক্কেল উপনির্বাচনের প্রার্থী হয়েছেন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেন। তার পরে সবই ঠিক ছিল। গত ১৮ সেপ্টেম্বর অন্য এক বিরোধী দল সমর্থন করার থেকেই পরিস্থিতি পরিবর্তন হয়। ২০০৭ সালের পুরনো মামলায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আর কয়েক দিন পরেই ভোটগ্রহণ। তিনি যাতে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন সেই কারণে ওই পদক্ষেপ (রক্ষাকবচের আবেদন)।’’ তিনি আরও বলেন, ভোটের মুখে নতুন মামলায় জামিন নেওয়ার জন্য সময়ের অভাব। সেই কারণে রক্ষাকবচ চেয়েছিলেন। তখন মিলনের আইনজীবীর উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘‘আপনার সওয়াল শুনে বলতে হচ্ছে, এটা জামিনের জন্যই উপযুক্ত মামলা। আপনার জামিনের আবেদন করা উচিত। নির্বাচনের জন্য সময় আছে। ছুটির দিনেও আদালত বসতে পারে। শনিবার বা রবিবারের জন্য আইনি প্রক্রিয়া থেমে থাকে না।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘বম্বে হাই কোর্টের বিচারপতি থাকাকালীন আমি ১৫ অগস্ট মামলা শুনেছি। ওই দিন এক ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড়ের আবেদন ছিল। খেলার বিষয়। আদালত বসাতেই হত।’’
এখানেই শেষ নয়, প্রধান বিচারপতি বলেছেন, কংগ্রেস প্রার্থী নির্বাচনে লড়তেই পারেন। কিন্তু আইনকে এড়িয়ে নয়। নির্বাচনে লড়াই করছেন বলে তিনি বিশেষ ব্যক্তি নন। আইনের চোখে সকলে সমান। সেখানে ভিআইপি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনও ভেদাভেদ নেই। প্রধান বিচারপতির মন্তব্য, ‘‘আপনি ভগবান নন। প্রত্যেক সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি বিশ্বাস রয়েছে। আপনি বিশেষ কেউ নন। জামিনের আবেদন করুন। আইনে যা বলা আছে, আমরা তা মেনে চলতে বাধ্য। প্রত্যেক নাগরিকের জন্য আইন সমান। নির্বাচনের সঙ্গে আইনি প্রক্রিয়ার কোনও বিরোধ নেই।’’
রাজ্যের অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল রাজদীপ মজুমদার জানান, মিলনকে যে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে, সেখানে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল এবং সেই পরোয়ানার ভিত্তিতেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যে অতিরিক্ত মামলাটি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাতে তাঁকে ১৯ সেপ্টেম্বরই গ্রেফতার করা হয়। আদালতের ২২ তারিখের নির্দেশের পরে নতুন করে গ্রেফতার করা হয়নি। রাজ্যের তরফে বলা হয়েছে, আগের সরকার এই পুরনো মামলাগুলি প্রত্যাহার করতে চেয়েছিল। সেই কারণেই দীর্ঘ সময় মামলাগুলিতে কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলিতে ২০২১ সাল থেকেই গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। কমিশনের নির্দেশে গ্রেফতার করা হয়েছে।

